*যৌবনে স্রষ্টাকে চেনার সবচেয়ে উর্বর সময় *
১. *কেন যৌবনকে “ঐশ্বরিক শক্তি” বলা হয়?
যৌবনে শরীরে শক্তি, মনে সাহস, আর চিন্তায় তীব্রতা থাকে। কুরআনে আল্লাহ বলেন, “তিনিই তোমাদেরকে দুর্বল অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর দুর্বলতার পর দিয়েছেন শক্তি”।
এই শক্তি শুধু দুনিয়া কামানোর জন্য না। ইসলামে যুবকদের উদাহরণ বারবার আনা হয়েছে – ইব্রাহিম আ. মূর্তি ভেঙেছিলেন যৌবনে, আসহাবে কাহাফের যুবকেরা ঈমান ধরে রেখেছিল মৃত্যুর মুখে। কারণ এই বয়সে মন কাদামাটির মতো থাকে, সহজে সত্য গ্রহণ করে।
২. *সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টাকে দেখা মানে কী?*
সূরা ফুসিলাত ৫৩ আয়াতে আল্লাহ বলেন: “আমি তাদেরকে আমার নিদর্শন দেখাব দিগন্তে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে, যতক্ষণ না স্পষ্ট হয় যে এটাই সত্য”।
মানে হলো – আকাশের বিশালতা, গাছের পাতার শিরা, নিজের হৃদস্পন্দন, প্রতিটাই আল্লাহর কুদরতের সই। সুফি সাধকরা বলেন, “আফাক ও আনফুস” – বাইরের জগৎ আর ভেতরের জগৎ, দুই জায়গাতেই আল্লাহর নিদর্শন।
যৌবনকালে চোখ পরিষ্কার থাকে, দুনিয়ার ধুলো জমে না। তাই এই চোখ দিয়ে দেখলে স্রষ্টা ধরা দেন।
৩. *যে দেখে না, সে কখনো পায় না – এর রহস্য*
ইমাম গাজ্জালি বলেন, “হাজার কিতাব পড়ার চেয়ে একটা ফুলের দিকে তাজ্জব হয়ে তাকানো উত্তম”। কারণ কিতাব মানুষের লেখা, ফুল আল্লাহর লেখা।
মানুষ সারা জীবন তীর্থে ছোটে, কিন্তু নিজের ভেতর আর চারপাশে তাকায় না। বার্ধক্যে এসে চোখ থাকলেও মন অন্ধ হয়ে যায়। তখন শুধু রীতিনীতি থাকে, রুহ থাকে না।
হাদিসে আছে, “মান আরাফা নাফসাহু ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু” – যে নিজেকে চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে। নিজেকে চেনার শ্রেষ্ঠ সময় যৌবন।
৪. *অজানা কিছু দিক- *মনস্তত্ত্ব বলছে*: ১৮-২৫ বছর বয়সে মানুষের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। এই সময়েই বিমূর্ত চিন্তা, নৈতিকতা, অস্তিত্বের প্রশ্ন নিয়ে গভীর ভাবনা আসে।
*সক্রেটিসের শিক্ষা*: “Know thyself” – নিজেকে জানো। সুফিবাদও একই কথা বলে। বাইরে না খুঁজে ভেতরে ডুব দাও।-
*ঝুঁকি*: যৌবনের শক্তি দিশা না পেলে ধ্বংস করে। তাই এই সময়েই সত্য-মিথ্যার পার্থক্য শেখা জরুরি।
*শেষ কথা*
যৌবন মানে শুধু দৌড়ানো না, থেমে দেখা। চারপাশের সৃষ্টির দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করা – “এটা কে বানালো? কেন বানালো? আমার সাথে এর সম্পর্ক কী?”
যে এই প্রশ্নের পেছনে লাগে, তার জন্য যৌবনই হয় মিরাজের সিঁড়ি। আর যে এড়িয়ে যায়, সে সারা জীবন বাইরে খুঁজে বেড়ায়, অথচ যা খুঁজছে তা চোখের সামনেই ছিল ।