• শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন
Headline
দিনাজপুরের বিরামপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জন আটক, দুই মাদকসেবীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড পূবাইলে ইনডেক্স এন্ড বেভারেজ ফ্যাক্টরি সিলগালা। কিশোরগঞ্জ শহরে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান কিশোরগঞ্জ শহরে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান কিশোরগঞ্জে যুবদলের আনন্দ মিছিল, নেতাকর্মীদের উৎসবমুখর অংশগ্রহণ মোঃ মনজুরুল এর বাসার জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দরজা খুলে ঘুমন্ত অবস্থায় গতকাল ভোর (৫) ঘটিকায় আত্মশুদ্ধি, নফসের সংযম ও ইসলামী সাধনার প্রকৃত রূপরেখা যৌবনে স্রষ্টাকে চেনার সবচেয়ে উর্বর সময় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে বকশীগঞ্জে প্রশাসনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি নরসিংদীতে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তাদের ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

Reporter Name / ৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

জনপ্রতিনিধিদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন: ‘শুধু সাংবাদিকদের কেন?’

লেখক: মোহাম্মদ সুমন চৌধুরী
সভাপতি, জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি, কেন্দ্রীয় কমিটি।

​সচেতন মহলের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন প্রণেতা বা স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষাগত বা পেশাগত কোনো সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ছাড়াই অনেকে দেশের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে চলে আসছেন।

​যেখানে একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীকেও শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চাকরিতে ঢুকতে হয়, সেখানে কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারণকারী এমপি-মন্ত্রীদের জন্য কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই।

যদি সাংবাদিকদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণের কথা বলা হয়, তবে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরের জনপ্রতিনিধিদের জন্যও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। মেম্বার থেকে শুরু করে মন্ত্রী—সবারই শিক্ষাগত ও ফৌজদারি রেকর্ড পর্যালোচনার আইন করা দরকার।

​সাংবাদিকদের ওপর জুলুম-নির্যাতনের
​অভিযোগ উঠেছে, মূলত একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ, চোর, বাটপার, চাঁদাবাজ, লুটতরাজ ও ঘুষখোরদের মুখোশ উন্মোচন করার কারণেই সাংবাদিকদের ওপর সুপরিকল্পিতভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

​”আজ চারিদিকে সাংবাদিকদের ওপর যে জুলুম ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তা মূলত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিউজ এবং ভিডিও করার সরাসরি খেসারত।

সাংবাদিকদের দাপট কমিয়ে রাখতে এক ধরনের অদৃশ্য ষড়যন্ত্র চলছে।

​দেশের সাধারণ মানুষ সবকিছু বুঝলেও ক্ষমতার দাপট আর আইনি হয়রানির ভয়ে মুখ ফুটে প্রতিবাদ করতে পারে না। কিন্তু সাংবাদিকদের লেখনী ও ক্যামেরার মাধ্যমে সেই অব্যক্ত কথাগুলোই গণমাধ্যমে ফুটে ওঠে।

​”সাংবাদিকরা না থাকলে পুরো দেশটা বিক্রি হয়ে যেতো”
​দেশের বিচার ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

তৃণমূলের সাধারণ মানুষ প্রায়শই থানা-পুলিশ বা আদালতে গিয়ে সঠিক প্রমাণের অভাবে ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। সেখানে সাংবাদিকদের করা সরেজমিন প্রতিবেদন বা ভিডিও ফুটেজ অনেক সময় অকাট্য প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

​বহু হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবার আজ বিচার পেয়েছে শুধু সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী রিপোর্টের কারণে। যদি সাংবাদিকরা সাহসী ভূমিকা না রাখত, তবে বহু লাশ প্রমাণের অভাবে স্রেফ গুম হয়ে যেত এবং অপরাধীরা পার পেয়ে যেত।

​বর্তমানে আমলা ও প্রভাবশালী মহলের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাধীন সাংবাদিকতা। সাংবাদিকদের কড়া নজরদারির কারণেই অনেক বড় বড় সরকারি প্রজেক্টের লুটপাট ও আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে, যা তাদের অবাধ লুণ্ঠনে বড় বাধা।

​জনগণের প্রত্যাশা গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এই স্তম্ভকে দুর্বল বা বিতর্কিত করার চেষ্টা রাষ্ট্রের জন্যই আত্মঘাতী হবে। সাধারণ জনগণের দাবি—সরকার যেন শুধু সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করার নীতি পরিহার করে আমলাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং জনপ্রতিনিধিদের যোগ্যতা নির্ধারণে কঠোর আইন প্রণয়ন করে। একই সাথে, সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা